ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): জিম্বাবুয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। শুক্রবার সকালে সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
আফ্রিকার স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বীর ছিলেন মুগাবে। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে জিম্বাবুয়ে শাসন করেন তিনি। তিন দশক ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। জিম্বাবুয়ে স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮০ সালে প্রথম নির্বাচনে জয় লাভ করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন মুগাবে।
১৯৮৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বিলুপ্ত ঘোষণা করে দেশের প্রেসিডেন্ট হন। তার দীর্ঘ শাসনামলে দুর্নীতি, স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ ও অদক্ষতার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
মুগাবে ১৯২৪ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রোডেশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে রোডেশিয়ার তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করায় এক দশকেরও বেশি সময় কারাবাস করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে কারাগারে থাকাকালীন সময়েই জিম্বাবুয়ের আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন তিনি।
শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে জিম্বাবুয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মুগাবেকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি স্বাধীনতার একজন আইকন ও একজন প্যান-আফ্রিকান ছিলেন। যিনি তার জনগণের ক্ষমতায়ন ও বন্ধনমুক্তির জন্য কাজ করেছেন। আমাদের জাতি ও মহাদেশের ইতিহাসে তার অবদান কখনো ভুলবার নয়। তার আত্মার শ্বাশ্বত শান্তি কামনা করছি। উল্লেখ্য, মুগাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন নানগাগওয়া।
গত শতকে জিম্বাবুয়ে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান মুগাবে। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর ধীরে ধীরে তার বিরুেেদ্ধ ওঠে নানা অভিযোগ। জীবনের শেষ বছরগুলোয় আর্থিক টানাপোড়ন, সহিংস ভীতি প্রদর্শন, দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থতার জন্য সুনাম হারান তিনি। নিজের প্রধান সহচর নানগাগওয়াকে রেখে স্ত্রী গ্রেসবকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিলেন মুগাবে।
মুগাবের মৃত্যু জিম্বাবুয়ের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। বৃটিশ শাসন থেকে জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা লাভের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত মুগাবেই দেশটির একমাত্র শাসক ছিলেন। জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের পুরো একটা প্রজন্ম তাকে ছাড়া অন্যকোনো শাসকের মুখ দেখেনি। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে জাতির পিতার সম্মান দেয়া হয় ও সরকার থেকে ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। এতে তার অনেক বিরোধীরা ক্ষুব্ধ হন। তবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মুগাবেও বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ দিয়ে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে জানান, নিজ দল জানু-এফ পার্টির বদলে বিরোধীদল মুভমেন্ট ফর ডেমোক্র্যাটিক চেঞ্জ’র প্রতি সমর্থন জানাবেন তিনি। যদিও এর আগে বহুদিন দলটিকে দমিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
Leave a Reply