দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ), ৩০ আগষ্ট ২০২৫ইং (দৈনিক দেশপ্রেম রিপোর্ট): দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নে শনিবার বিকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদল-এর উদ্যোগে একটি বিশাল কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশের আয়োজন মূলত ইউনিয়ন স্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংহতি সৃষ্টি, সংগঠনের একনিষ্ঠতা দৃঢ় করা এবং ভবিষ্যতের ইউনিয়ন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নেওয়াকে কেন্দ্র করে করা হয়।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এরশাদুর রহমান মেম্বার সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনা করেন সদস্য সচিব শামীম পাশা রিগেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মনাজ্জির হোসেন। এছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন।
সমাবেশে জেলার অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদেরও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষভাবে বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য শাহীন আহমেদ, সাদিকুর রহমান চৌধুরী, শামীম আহমেদ ও তারেক হোসাইন রাজ। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক রুবেল আহমেদ, মোশাররফ মজুমদার এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহাব উদ্দিন শিহাবও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
বাংলাবাজার ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের পদপ্রত্যাশীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন শাহ আলম, সাইফুল ইসলাম, মনির বেগ, জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কালাম মাল, রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে। বক্তারা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রার্থীদের মূল উদ্দেশ্য, কমিটির মানসম্মান ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার বিষয়ে পরামর্শ দেন।
বক্তারা সমাবেশে উল্লেখ করেন যে, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের দুঃসময়ে যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করেই ভবিষ্যতের ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে হবে। তারা বলেন, কোন অবস্থাতেই আওয়ামী লীগ ঘেঁষা বা ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা যাবে না। দুর্দিনে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন এবং সংগঠনের স্বার্থে নিবেদিত ছিলেন, তাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে কমিটি গঠনের জন্য সুপারিশ করা হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দলীয় একতার মধ্যেই সংগঠন শক্তিশালী হবে এবং জনগণের মধ্যে দলীয় পরিচিতি বাড়বে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধান, জনসেবামূলক কার্যক্রম ও যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে নেতৃত্ব গড়ে তোলার গুরুত্ব নিয়েও আলোকপাত করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল শুধু রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটি জনসেবা ও মানবিক কাজেও এগিয়ে থাকে। তাই স্থানীয় কমিটি গঠনের সময় নেতাদের নেতৃত্ব, সততা ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককেই প্রাধান্য দিতে হবে। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা করা, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যকরী নীতি নির্ধারণ করা এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশের উপর জোর দেওয়া হয়।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, বর্তমান সময়ে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাই কমিটি গঠনের সময় প্রতিটি পদে সেই নেতাদের রাখা হবে যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি অনুগত। এতে সংগঠন সুসংহত হবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় সহায়ক হবে।
উপজেলা ও ইউনিয়ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নেতৃত্বের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও একতা দৃঢ় হয়েছে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ইউনিয়ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের পদপ্রত্যাশীরা নিজেরাই নিজেদের অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারা বলেন, কমিটি গঠনের সময় যে নেতারা সত্যিকারভাবে দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। দুর্দিনে যারা সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কমিটিতে কাজে লাগানো হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ইউনিয়ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, দলের ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কমিটি গঠনের সময় সকল স্তরের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান নেতাদের বাছাই করা হবে। এতে কমিটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে এবং স্থানীয় জনসেবা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
সমাবেশে উপস্থিতরা একমত হয়েছেন যে, ইউনিয়ন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও কার্যকর হতে হবে। স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন, যুবদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং দলের শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে। নেতারা আশ্বাস দেন যে, দুর্দিনে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদেরকে কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং স্থানীয় স্তরে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
সমাবেশ শেষে বক্তারা উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে তাদের মতামত সংগ্রহ করেন এবং কমিটি গঠনের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। এতে স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে একতা ও সংহতি আরও দৃঢ় হয়েছে।
শেষে বক্তারা সকলকে উৎসাহিত করেন, আগামী দিনে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরও গতিশীল করে তোলা হবে। দলের শৃঙ্খলা, একতা ও জনসেবার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নেতারা সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
সমাবেশে দোয়ারাবাজার উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি সমাবেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং দলের প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থন আরও দৃঢ় করেছে।
Leave a Reply