ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ জুলাই ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): আফগানিস্তানের এক পুলিশ সদরদপ্তরে জঙ্গি গোষ্ঠী তালিবানের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৯০ জন। বৃহস্পতিবার কান্দাহার প্রদেশের রাজধানী শহর কান্দাহারের পুলিশ সদরদপ্তরে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সরকারি কর্মকর্তারা ও তালিবান সদস্যরা। তালিবান মুখপাত্র কারি ইউসুফ আহমাদিকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহারের পুলিশ সদরদপ্তরে গাড়ি বোমা, বোমা ও বন্দুক হামলা চালানো হয়েছে। ভারি ও হালকা অস্ত্রে সজ্জিত তালিবান যোদ্ধারা সদরদপ্তরের ভেতরে ঢুকে এই হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, কান্দাহার প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র বাহির আহমাদি এক বিবৃতিতে বলেন, হামলায় ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নয় জন বেসামরিক ও দুই পুলিশ সদস্য রয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮৯ জন আহত হয়েছেন। প্রথমে দুই তালিবান সদস্য আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে বাকি হামলাকারীদের ভেতরে ঢোকার সুযোগ করে দেয়।
পরে ছয় জন বন্দুকধারী তালিবান সদস্য সদরদপ্তরের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। কান্দাহারের গভর্নর হায়াতুল্লাহ হায়াত বলেন, হামলা শেষ হয়েছে। পণ্য বহনকারী কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেছে। আফগান সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পুরো এলাকায় হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া ছবিতে দেখা যায়, কান্দাহার থেকে বিশাল আকারের কালো ধূয়া উড়ছে। উল্লেখ্য, কান্দাহার পূর্বে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবানের ঘাঁটি ছিল। পরবর্তীতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করে। এরপর থেকে প্রদেশটি ফের নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে তারা।
এদিকে, আফগান সরকার ও তালিবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে জঙ্গি গোষ্ঠীটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি দুই পক্ষ। গত বছর থেকে কাতারে এই আলোচনা চলছে। তবে এর মধ্যেও আফগানিস্তানে কমেনি সহিংসতা। হামলা অব্যাহত রেখেছে তালিবান। কান্দাহারে হামলার দু’দিন আগেও দুই আফগান সেনা গজনি প্রদেশে আফগান সেনাবাহিনীর এক কর্নেলকে গুলি করে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই দুই সেনা তালিবানের সদস্য ছিল। এছাড়া বুধবার বাদঘিস প্রদেশে এক অতর্কিত হামলায় ২০ আফগান ¯েপশাল ফোর্সের ২০ সদস্যকে হত্যা করে তালেবান।
Leave a Reply