দৃষ্টি আকর্ষন
সব সময় সর্বশেষ সংবাদ জানতে দৈনিক দেশপ্রেম নিজে পড়ুন এবং অন্যকে পড়তে উৎসাহিত করুন ........... আপনার এলাকার যে কোন সংবাদ আমাদের ছবিসহ জানান-আমরা সেটি প্রকাশ করবো দৈনিক দেশপ্রেম পত্রিকায়, নিউজ পাঠান dailydeshprem@gmail.com এই ইমেইলে ............ আপনার পণ্যের খবর সকলের কাছে দ্রুত পৌছাতে দৈনিক দেশপ্রেম পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন ..........
শিরোনাম :
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের আলোচনা সভা, সবজি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের জৈব সার বিতরণ সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা, রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য সবজি বীজ বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জুলাই যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সনদে জরুরি সংশোধন হচ্ছে : ড. আলী রীয়াজ জুলাই সনদ স্বাক্ষর নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত মনে করছি : মঈন খান জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে তিন দাবিতে অবস্থান জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা জাতীয় ঐক্যের নামে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে : জাতীয় শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নাহিদ কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিস্টদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না : সালাহউদ্দিন তারেক রহমানের ৩১ দফার আংশিক প্রতিফলন জুলাই সনদে হয়েছে : এমরান সালেহ প্রিন্স ঠাকুরগাঁওয়ে সার কীটনাশক সিন্ডিকেটের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে : ফারুক হাসান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত
১৮ বছর ধরে জ্বিনের ভয় দেখিয়ে নারী ও শিশুকে ধর্ষণ ইমাম : বলেছেন, র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক সারওয়ার-বিন-কাশেম

১৮ বছর ধরে জ্বিনের ভয় দেখিয়ে নারী ও শিশুকে ধর্ষণ ইমাম : বলেছেন, র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক সারওয়ার-বিন-কাশেম

ঢাকা, ২২ জুলাই ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): ঝাঁড়ফুক করতে আসা নারীদের ফাঁদে ফেলে ইমামের ধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে তদন্তে তার প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। তারা জানিয়েছে, ধর্ষণ করে সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে রাখতেন রাজধানীর একটি মসজিদের ওই ইমাম। তিনি ১০টিরও বেশি ছেলে শিশুকে বলাৎকার করেছেন। এসব বিষয় ফাঁস করতে চাইলে তাদের ‘দুষ্টু জিন’ দিয়ে ক্ষতি করার ভয় দেখানো হতো। অভিযুক্ত ইমাম রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি মসজিদে নামাজ পড়াতেন। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রায় শিক্ষকতাও করতেন। রবিবার রাতে এসব অভিযোগে র‌্যাব তাতে গ্রেপ্তার করে। সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক সারওয়ার-বিন-কাশেম।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ইদ্রিস আহম্মেদ ২০০২ সাল থেকে দক্ষিণখানের মসজিদটিতে ইমামতি করেন। ১৯৯৮ সালে সিলেট থেকে টাইটেল পাস করে স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। সে সময়ও একই অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ‘আমাদের কাছে কয়েকজন অভিযোগ করে মসজিদের এই ইমাম এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কু-কর্ম করে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে আমরা গোয়ান্দা নজরদারি বাড়াই। পরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।’

‘জ্বিনের ভয় দেখিয়ে নারীদের ধর্ষণ করতেন ইদ্রিস। এই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ইদ্রিস ২০০২ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করতেন। একই সঙ্গে এলাকার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি ঝাড়ফুক, পানি পড়া ও তাবিজ-কবজের কাজ করতেন। এলাকায় প্রচার করেছিল তিনি জ্বিন কজ্বায় রাখতে পারেন। এটা ছিল তার একটি বড় হাতিয়ার।’‘মহিলারা তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুক করতে এলে তাদেরকে মসজিদে তার কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করতেন এবং তা ভিডিও ধারণ করে রাখতেন।’

র‌্যাব জানায়, অনেক নারী চেয়েছিলেন বিষয়টি প্রকাশ করতে। কিন্তু সামাজিক অবস্থার কারণে তা করেনি। আর এসব কথা ফাঁস হবার ভয়ে সবাইকে জ্বিনের ভয় দেখানো হতো।
ইমাম বলতেন, “তোমরা যদি এসব বিষয় নিয়ে মুখ খোল, তাহলে ‘দুষ্টু জ্বিন’ দিয়ে তোমাদের ক্ষতি করব।”

এভাবে চার-পাঁচজন নারী ইমামের কুপ্রবৃত্তির শিকার হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব। সারোয়ার বলেন, ‘তার খেদমতে থাকা খাদেমদেরও বলাৎকার করেছেন। এ যাবত দশজনের বেশি খাদেমের সঙ্গে এই কাজ করেছেন।’‘তারা র‌্যাবকে জানিয়েছে, এই ইমাম মসজিদের পাশের নিজের রুমে বসে সিগারেট খেতেন। বলাৎকার করার ভিডিও ইদ্রিস ধারণ করে রাখতেন, যাতে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করতে না পারে।’

‘তার এই কারণে মসজিদের যেতে চাইত না। তখন ইদ্রিস তাদের পরিবারের কাছে গিয়ে বলত, শিশুরা যদি মসজিদে না যায় তাহলে তার আমল নষ্ট হবে। এসব ছলচতুরতার মাধ্যমে তাদেরকে মসজিদের আনতেন আর বলাৎকার করতেন।’

সংবাদ সমেম্লনে র‌্যাব জানায়, নারীদের ধর্ষণ ও শিশুদের বলাৎকারের কথা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন ইমাম। আর তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোনে কুরুচিপূর্ণ ছবি, ভিডিও পাওয়া গেছে।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, ‘মাদ্রাসায় যারা পড়ত তারা খুবই ছোট। অল্প বয়সে তারা খাদেম হয়। এসব শিশুদেরই তিনি বলাৎকার করতেন। যারা একবার তার ফাঁদে পড়েছে তারা বারবার এই ঘটনার শিকার হয়েছে।’ ‘জ্বিনের ভয় দেখিয়ে সে এসব শিশুদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ কাজ বেশি করেছে। বারো বছরের একটা শিশুকে আমরা পেয়েছি যে চারবছর ধরে এই লালসার শিকার।’

আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্যও মিলেছে ইমাম ইদ্রিসের বিরুদ্ধে। তিনি একটি সোসাইটি গঠন করে প্রচার করেন, এটা হুজুরদের মাধ্যমে পরিচালিত। এখানে কোন সুদের কারবার হবে না। এভাবে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু সে টাকা কখনো ফেরত দেননি। স্থানীয়রা যখন টাকা ফেরত চেয়েছে তখন তিনি বলতেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তারা টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেছে। তাই টাকা দেওয়া সম্ভব না। ‘পরে আবার বলেন, একটা বড় জমি কিনে জমির লাভ সকলকে করা হবে। কিন্তু জমির টাকা এখনও কাউকে দেননি।’

উত্তরখানের বিভিন্ন গার্মেন্টস ও প্রতিষ্ঠান থেকে মসজিদ ও মাদ্রাসার কথা বলে টাকা তুলেছিলেন এই ইমাম। কিন্তু সেসব টাকা ইমাম ইদ্রিস ব্যক্তিগত কাজে লাগিয়েছেন বলেও প্রমাণও পাওয়া গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© Copyright 2012 Daily Deshprem Design & Developed By Mahmud IT