ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০৮ আগষ্ট ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বন্ধুত্বের কণ্ঠে বলেন,‘বুধবার পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তে ভারত দু:খ প্রকাশ করছে। আমরা স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ চালুর জন্য পাকিস্তান সরকারকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছি।’ গতকাল কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের সঙ্গে সমস্ত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পাকিস্তান সরকার।
বৈঠকে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও কমিয়ে আনা, দ্বিপাক্ষিক সব বিষয়ের পুনমূর্ল্যায়ন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যু তোলা, ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে উদযাপন, ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে পাক অধিকৃত কাশ্মীরিদের নিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন, দিল্লি থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে দেশে নিয়ে আসা এবং ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়।
সোমবার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করতে সংসদে প্রস্তাব পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংসদের অনুমোদনের পরই প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ এই প্রস্তাবে সই করেছেন। প্রেসিডেন্টের সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেয়া ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে রাজ্যের মর্যাদাও হারায় রাজ্যটি।
প্রস্তাবে জম্মু ও কাশ্মিরকে দু’ভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মির মিলিয়ে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অন্যদিকে লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পরপরই সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রতিবাদের ঝড় তোলে বিরোধীরা। কয়েক মিনিটের জন্য মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন। পরে ফের অধিবেশন শুরু হলে, বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই প্রেসিডেন্টের নির্দেশনামা পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই সংবিধানের প্রতিলিপি ছিঁড়ে ফেলেন দুই পিডিপি সাংসদ মীর ফৈয়াজ ও নাজির আহমেদ। সঙ্গে সঙ্গে তাদের আটক করা হয়। সেই সঙ্গে মেহবুবা মুফতির দলের ওই সাংসদদের রাজ্যসভা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ারও নির্দেশ দেন উপরাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। তারা সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যসভার বাইরে বেরিয়ে এসেও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
এ ঘটনায় কাশ্মীরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। সেখানে ইন্টারনেট যোগাযোগ সেবা বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে, কাশ্মীরের জনগণ ৩৭০ ধারা বাতিলের কারণে বিক্ষোভ করেছে।
Leave a Reply