ঢাকা, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): আজ শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে তার মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য একত্রিত হয়ে শপথ নিতে হবে। মানসিকতা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে পারবো না। তা যত বড় বড় কথাই মাইকের সামনে বলি না কেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের রাজপথ না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আলাল বলেন, ‘যখন আমরা স্লোগান দিই ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, তখন আমার স্লোগান দিতে ইচ্ছে করে, ‘খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথে নামি নাই’। নামি নাই যখন তাহলে পরের কথাটা আসে কী করে? যে পথে কাঁটা নাই সেটা কোনই পথই না। সেটা হলো মসৃণ কার্পেট। কার্পেটের উপরে হেঁটে হেঁটে মজলিসে যাওয়া যায়, মঞ্জিলে যাওয়া যায় না। একত্রিত হয়ে শপথ নিতে হবে, তবেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘এখানে যতো নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছেন তার দশ ভাগের এক ভাগও যদি নির্বাচনের দিন মাঠে উপস্থিত থাকতাম তাহলে আমাদের ঈমানদারিত্বের পরীক্ষা হতো।’
আমির খসরু বলেন, ‘আমরা যখন আইনি ব্যবস্থায় গিয়েছি দেশের মানুষ বলেছে, আপনারা বিচার পাবেন না। বন্ধুগণ আজকে মনে রাখতে হবে- বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পাবে না। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি- কেউ রাস্তা ছেড়ে যাবেন না। যতদিন আমরা গণতন্ত্রের মাকে আমাদের মাকে মুক্ত করতে না পারবো ততদিন আমরা রাস্তায় থাকবো।’
খসরু বলেন, ‘বন্ধুগণ, এই বিশাল জনসভায় আজকে উপস্থিত যারা হয়েছেন, আমি নিশ্চিত আপনাদের প্রায় সবাই সিটি নির্বাচনের কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। মিছিল করেছেন। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে নির্বাচনের সময়। মিডিয়াতে দেখেছি, তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা শহরে মিছিল করেছে। কিন্তু সেই হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যায় নাই। কেন যায় নাই? বিএনপির পক্ষে ধানের শীষের পক্ষে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় ছিল। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে যায় নাই।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অবস্থা এত করুণ, দলীয় কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট তৈরি করে তারপরও তারা নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে পারে নাই। ভোটের দিন প্রধানমন্ত্রীকে ভোট চাইতে হলো। কী করুণ অবস্থা তাদের।’
Leave a Reply