ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): নয়াপল্টনে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পর বন্ধ থাকা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক খুলে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে এই সড়কে স্বাভাবিক হয়েছে যান চলাচল। তবে বিএনপির কার্যালয় এখনো বন্ধ রাখা আছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে চারটা নাগাদ সড়কটি খুলে দেওয়া হয়।
এর আগে সকালে নয়াপল্টনে দেখা যায়, বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। কোনো যানবাহন যাতে এই সড়কে প্রবেশ না করতে পারে সেজন্য বিজয়নগরের নাইটিঙ্গেল মোড় ও ফকিরাপুল মোড়ে ব্যারিকেড বসায় পুলিশ।
পরে দুপুর দুইটা নাগাদ বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়কের বেশ খানিকটা অংশ জুড়ে ফিতা টাঙিয়ে ককটেল বিস্ফোরণের স্থানগুলো থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল থেকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। দুপুরে নেতাকর্মীদের বেশ ভিড় দেখা যায়। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এসময় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে নয়াপল্টন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে দলের কার্যালয়ের সামনের সড়কে নেতাকর্মীরা দফায় দফায় মিছিল করেন। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেন।
এদিকে বিকাল ৪টার কিছু সময় পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সামনের সড়কে আসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সদস্য আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।
এসময় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা এ্যানী ও জুয়েলকে তুলে নিয়ে যায়। তবে সাংবাদিকরা ডিবির কর্মকর্তাদের কাছে তাদের আটক করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহবায়ক আব্দুস সালাম, দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
Leave a Reply