ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০৬ এপ্রিল ২০২৩ইং ২০২৩ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): মাটির তলা থেকে বের করা হলো আস্ত একটি কামান। ২৫০ বছর ধরে যেটি অবহেলায় পড়েছিল মাটির নিচে। কিছুটা অংশ দেখাও যেত। কিন্তু দেখেও যেন দেখতেন না কেউ। তবে ইতিহাস পিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় ছিল এই কামান। এবার একেবারে মাটির তলা থেকে বের করা হলো কামানটিকে।
মনে করা হচ্ছে, ১৭৭০ সালে কামানটি তৈরি করা হয়েছিল। ৬ টন ওজনের এই কামানটি ১৮ কেজি ওজনের গোলা ১২০০ থেকে ১৫০০ গজ দূরে ছুঁড়তে পারে। আধুনিক অস্ত্রের তুলনায় হয়তো এই পাল্লা কিছুই নয়। তবুও কলকাতার মাটির নিচে থমকে থাকা ইতিহাস যেন আচমকাই কথা বলে ওঠে।
প্রায় ১৫ দিনের চেষ্টায় বুধবার কামানটিকে খুঁড়ে বের করা হয়। দমদম সেন্ট্রাল জেলের কাছেই যশোর রোডের মোড়ে পাওয়া যায় কামানটি। দমদম পৌরসভা, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট ও সিইএসসি এই কামান তুলতে সহযোগিতা করে।
এদিন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেনারেল অ্যান্ড অফিসিয়াল ট্রাস্টি অব ওয়েস্ট বেঙ্গল বিপ্লব রায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দমদমে যশোর রোডের ধারে কীভাবে কামানটি এলো?
মনে করা হচ্ছে, এখান থেকে ক্লাইভ হাউজের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। সম্ভবত কামানটি যুদ্ধের কাজে লাগানো হয়েছিল। পরে দমদম সেন্ট্রাল জেলে ঢোকার মুখে সেটি রাখা হয়েছিল। পরে সেখানে জঞ্জাল ফেলে ভরতি করে ফেলা হয়েছিল।
এই কামানটি আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের জুডিশিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে পাঠানো হবে। কারণ এটা আপাতত আদালতের সম্পত্তি। পরবর্তী সময়ে এটি অনুমতি সাপেক্ষে অন্যত্র সংরক্ষণ করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, কলকাতায় মাটির নিচে এরকম একাধিক কামান থাকতে পারে। সেগুলোও ধাপে ধাপে খুঁড়ে বের করা হতে পারে। তবে এদিন চোখের সামনে এত বড় কামান দেখে অবাক হয়ে যান অনেকেই। এতদিনের পরিশ্রম কার্যত সফল। চলে সেলফি তোলার হুড়োহুড়ি।
এতদিন কামানটির এক ফুট মাটির উপরে ছিল। বাকি ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি ছিল মাটির নিচে। সবটাই খুঁড়ে বের করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই কামানটি ব্রিটিশদের তৈরি। ১৭৬৩ সালে এটি নকশা করা হয়েছিল। বিপ্লব রায় জানিয়েছেন, প্রচুর কামান কলকাতার রাজপথের নিচে রয়েছে। আজ এক আনন্দের দিন। রবার্ট ক্লাইভের বাড়ির কাছ থেকে কামান উদ্ধার হলো।
Leave a Reply