ঢাকা, ৩১ আগষ্ট ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চেহারার দিকে তাকালে মন হয়, তাদের মধ্যে আতঙ্কের ছায়া কাজ করছে।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারাগারেই খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখোমুখি করতে চান। কারাগারে খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলে বেশি খুশি হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমি জানি না ইশ্বর তার (প্রধানমন্ত্রীর) আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবেন কি না। নাকি তার কান্না দেখে ভবিষ্যতে মানুষ কাঁদতে ভয় পাবে। কারণ, এত অপকর্মের জবাব তো একটা না একটা দিতেই হবে।’ ‘কী কারণে প্রধানমন্ত্রী দেশে কম থাকেন, বিদেশে বেশি থাকেন, কী তার কর্মকাণ্ড, তা তার দলের নেতারাও জানেন না। এ রহস্যময় ঘটনার জন্য আমার কোনো বক্তব্য নেই। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চেহারার দিকে তাকালে মন হয়, তাদের মধ্যে আতঙ্কের ছায়া কাজ করছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর এক বক্তব্যের সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘নিজের স্বার্থেই কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়েছেন। তার প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, তারেক রহমানকে নেতা বানানোর জন্য তিনি ফ্রন্টে আসেননি, এটা ঠিক বলেছেন।’
কাদের সিদ্দিকীর উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘এটা জানি, আপনার রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় ফ্রন্টে এসেছিলেন। আর স্বার্থ বিবেচিত হয়নি বলেই সেখান থেকে ফেরত গেছেন। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। তা বোঝার মতো সক্ষমতা জনগোষ্ঠীর আছে।’
‘রোহিঙ্গাদের ইন্ধন দিচ্ছে কারা’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ইন্ধন দিচ্ছে সরকার। যদি ইন্ধন না দেয়, তাহলে তারা লাখ লাখ রোহিঙ্গা সমবেত হয়ে সমাবেশ করে কীভাবে? বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকার যেখানে সভা-সমাবেশ করতে দেয় না, সেখানে উন্মুক্ত ময়দানে রোহিঙ্গারা সমাবেশ করছে। সেখানে আমি তো মনে করি, সরকারের ইন্ধন রয়েছে।’
জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। বলেন, ‘এই উদ্যোগটা সরকারকে নিতে হবে। বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গারা যেতে চায় না। কেন যেতে চায় না? যদি তারা চলে যায়, তাহলে সরকার তাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে না।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি আদালতের মাধ্যমে হবে, এই শব্দটা বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হয়। কারণ রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর বিচার কখনো আদালত করে না। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর বিচার হয় জনগণের আদালতে। বিশ্বাস সঙ্গে বলতে পারি, জনগণের আদালতে তিনি এখনো দোষী সাব্যস্ত হননি।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
Leave a Reply