ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২৯ জুলাই ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে তৈরি করা হয়েছে একটি ওয়েবসাইট। যার নাম দেওয়া হয়েছে “দিদি কে বলো ডট কম”। খোলা হয়েছে ২৪ ঘন্টা সাত দিনের একটি হটলাইনও। এখানে শুধু দিদি তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেরপাধ্যায়কে নয় কেউ চাইলে তৃণমূলের সদস্যপদও নিতে পারবেন। আজ সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জনসংযোগের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে সংযোগ করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মমতার স্বীকার করে বলেন, ‘এটা কোনও নির্বাচনী প্রচারণা নয়। পৌনে দুবছর এখনও কাজের সময়। আমরা কাজটাই গুরুত্ব দিচ্ছি।’ ‘একটা নির্দিষ্ট ফোন নম্বর এবং একটি ডিজিটাল মাধ্যম এই দুটো মাধ্যমেও আমরা সংযোগ তৈরি করবো মানুষের সঙ্গে।’
তৃণমূল কংগ্রেস গরীব পার্টি বলে মন্তব্য করে তৃণমূলের নেত্রী বলেন, ‘অনেক গণমাধ্যমের খবর দেখলাম তৃণমূল কংগ্রেস পূর্ণসময়ের জন্য কর্মী নিয়োগ করবে। এটা ঠিক নয়। আমরা সেই রকম দল নই।’
মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সরকার কিংবা সরকারি দলের সঙ্গে মানুষের সংযোগ বরাবরই ভালো এবং ছিলে আছে কিন্তু এই নতুন প্রকল্পের মধ্যদিয়ে সেটা আরো বাড়বে।
তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন ফরমুলাকে কটাক্ষ করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল গুলো। বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেছেন, তৃণমূলের “দিদি কে বলো” এই ক্যাম্পেইন প্রমাণ করে এই দলের সঙ্গে মানুষর আর কোনও সম্পর্ক নেই।
কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, পুরোটাই তৃণমূলের নাটক।
বামফ্রন্ট নেতা সুজন চক্রবর্তী মনে করেন, ‘কাটমানি ফিরিয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ করতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু সেটাতে তৃণমূল আরো তলিয়ে গিয়েছে। এবার নতুন ফরমুলাতেও কোনও কাজ হবে না। এই দলটির সম্পর্কে রাজ্যবাসী বুঝে গিয়েছেন।’
লোকসভা নির্বাচনের ৪২ আসনের মধ্যে ২২ টি আসন পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সর্বশেষ ২০১৪ সালের তারা ৩২ আসন পেয়েছিল। অন্যদিকে ২০১৪ সালে বিজেপি মাত্র ২টি আসন পেয়ে ৫ বছর পর সর্বশেষ নির্বাচনের ১৮ আসনে নিজের জয় নিশ্চিত করে।
রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের জনপ্রিয়তার নিম্নগামী প্রবণতার টের পেয়ে ভারতের অন্যতম ‘রাজনৈতিক কৌশল বিক্রেতা’ বলে পরিচিত প্রশান্ত কিশোরকে নিযুক্ত করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রশান্ত কিশোরের প্রথম ফরমূলা মেনেই তৃণমূল নেত্রী প্রকাশে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের ঘুষের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্থানীয় ভাষায় যাকে কাটমানি বলা হয়। সেই ঘুষের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দেওয়ার পরই রাজ্য জুড়ে
তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাও, তৃণমূল নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করে ঘুষের টাকা ফেরাতে দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে বিরোধীরা কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হাতে পেয়েছেন। যা তারা প্রয়োজন মতো ভালোভাবেই ব্যবহার করছেন এখন।
এবার তৃণমূলের নতুন ”দিদি কে বলো” প্রচারণার কৌশলকে নিয়েও যে বিজেপি, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট একসঙ্গে মমতার দিকে রাজনৈতিক অস্ত্র ছুড়ে মারবে সেটা কিন্তু রাজনৈতিক মহল শতাভাগই বিশ্বাস করছেন।
Leave a Reply