ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করায় শূন্য হওয়া জাতীয় সংসদের ৫টি আসনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে আজ রবিবার কমিশনের সভা শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ৫ জানুয়ারি, বাছাইয়ের শেষ তারিখ ৮ জানুয়ারি আর মনোনয়ন পত্যাহারের শেষ তারিখ ১৫ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ১ ফেব্রুয়ারি।
বিএনপি এমপিদের পদত্যাগে জাতীয় সংসদের শূন্য আসন গুলো হলো—ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া ৪ ও ৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২। এ পাঁচ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে।
বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাকি চার নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ‘এই ৫ আসনের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোটগ্রহণ হবে। ১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে।’
এই উপনির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান ইসি সচিব।
১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে বিএনপির দলীয় সাতজন এমপির পদত্যাগের ঘোষণা আসে। ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে গিয়ে বিএনপির সাত এমপি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এসময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া–৬ আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
আর অস্ট্রেলিয়া থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ এবং অসুস্থতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের পক্ষে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর ওইদিনই আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করে গেজেট হয়। এরপর এই আসনগুলোতে উপনির্বাচনের তারিখ ফেলল নির্বাচন কমিশন।
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট থেকে আটজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বিএনপির ছয়জন এবং গণফোরামের দুজন। বিএনপির ছয়জনের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছিলেন।
নির্ধারিত সময়ে শপথ না নেওয়ায় মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচন হয় এবং সেখানে বিএনপির আরেক প্রার্থী জয়ী হন। এরপর সংরক্ষিত আসন থেকে রুমিন ফারহানা এমপি হলে বিএনপির সংসদ সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।
Leave a Reply