ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং (দৈনিক দেশপ্রেম রিপোর্ট): রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে জনরোষ ফেটে পড়েছে। ধারাবাহিক ছিনতাইয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বুধবার ভোরে চার ছিনতাইকারীকে ধরে গণপিটুনি দিলে দুজন নিহত হন। স্থানীয়রা জানান, ছিনতাইকারীদের লাগাতার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা এ ঘটনার আশ্রয় নেন। আজ বুধবার ভোরে মোহাম্মদপুরের নবীনগর সাঁকোর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন– হানিফ ও সুজন। এছাড়া আহত হয়েছেন শরীফ ও জুয়েল। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রফিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চার ছিনতাইকারীকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হানিফ ও সবুজকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শরীফ ও জুয়েল পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত-আহতরা সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে নবীনগর ও বসিলা ৪০ ফিট এলাকার খালের সাঁকোর কাছে কয়েকজন ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছিনতাই চালায়। ভোরে আবারও একই স্থানে ছিনতাই করতে আসলে চারজনকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, আহত ছিনতাইকারী সুজন ওরফে বাবলু ও ফয়সাল ঢাকা উদ্যান এলাকার কিশোর গ্যাং নেতা জনি ওরফে “রক্তচোষা জনি”-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নিয়মিত ছিনতাই করে আসছে।
বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ছিনতাই করলেও পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এ চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গ্রেপ্তারের পর জামিনে বের হয়েই তারা পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় মোবাইল ছিনতাইয়ের সময় ইয়ামিন নামের আরও এক ছিনতাইকারী গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হন। এ সময় তার সাথে থাকা ফাহিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
Leave a Reply