গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী), ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং (দৈনিক দেশপ্রেম রিপোর্ট): রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের কবর নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মাটি থেকে অন্তত ১২ ফুট উঁচু বেদি তৈরি কবরটিতে কাবা শরীফের আদলে রঙ করা এবং ‘হযরত ইমাম মাহাদী (আ.) দরবার শরীফ’ নামে ব্যানার টানানোয় ক্ষুব্ধ তৌহিদী জনতা আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে কবরটি থেকে লাশ উত্তোলন করে অগ্নিসংযোগ করেছে।
এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদ করতে গেলে নুরাল গাগলের ভক্তদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের দুটি ডাবল কেবিন পিকআপ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ গড়ে তোলেন নুরুল হক। আশির দশকের শেষ দিকে তিনি নিজেকে ‘ইমাম মাহদি’ দাবি করলে জনরোষ তৈরি হয়। ১৯৯৩ সালের ২৩ মার্চ মুচলেকা দিয়ে তিনি এলাকা ছাড়লেও কিছুদিন পর ফিরে এসে কার্যক্রম চালু করেন।
গত ২৩ আগস্ট ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে নুরুল হকের মৃত্যু হয়। ওইদিন রাতে প্রথমে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে এবং পরে ভক্তদের অংশগ্রহণে দুটি জানাজা শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশেষ কায়দায় ১২ ফুট উঁচু বেদির ওপর দাফন করা হয়। বেদিটি পবিত্র কাবার আদলে রঙ করা হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে স্থানীয় আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ‘ইমাম-আকিদা রক্ষা কমিটি’ গঠন করেন। তারা গোয়ালন্দ উপজেলা মডেল মসজিদ ও রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের কাছে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানান।
Leave a Reply