ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ৩১ আগষ্ট ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): রাজ্যজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে আসামের নাগরিকত্ব বিষয়ক চূড়ান্ত তালিকা বা এনআরসি। এতে বাদ পড়েছেন কমপক্ষে ১৯ লাখ মানুষ। এসব মানুষ এখন রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে। তাদের সামনে আপিল করার সুযোগ থাকলেও তাতে কতজন লাভবান হবেন তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। আসাম সরকারের কর্মকর্তারা বলেছেন, আজ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় রাজ্যের সব এনআরসি সেবাকেন্দ্রে এ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে মোট বৈধ নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনকে। অন্যদিকে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন। এই তালিকাটি অনলাইনে পাওয়া যাবে
www.nrcassam.nic.in অথবা www.assam.mygov.in এই ঠিকানায়।
এনআরসি বিষয়ক রাজ্যের সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলা বলেছেন, যারা তালিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তারা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। এতে আরো বলা হয়, এনআরসি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো আসামে বসবাস করছেন যেসব মানুষ তারা আসলে ভারতীয় নাকি বিদেশী তা সনাক্ত করা।
শনিবার তালিকা প্রকাশের আগে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। পূর্ব সতর্কতা হিসেবে সেন্ট্রাল আর্মড প্যারামিলিটারি ফোর্সের ৫১টি কোম্পানি নিযুক্ত করা হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে। দিসপুরে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। এখানে রাজ্যের সচিবালয় ও বিধানসভা অবস্থিত। ভাঙ্গাগড়, বাসিস্তথা, হাতিগাঁও, সোনাপুর ও খেত্রির মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। দিসপুর ২৮ শে আগস্ট থেকে বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল জনসাধারণকে শান্তি, শৃংখলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিরোধী দলগুলো এই প্রক্রিয়ার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার বহু পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ও লক্ষ লক্ষ মানুষকে রাতারাতি রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে পরিণত করেছে। বিরোধীদল কংগ্রেস পার্টির নেতা রাহুল গান্ধী এ নিয়ে আগেই বলেছেন, এই তালিকা মানুষের মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
Leave a Reply