ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): ভারত অধিকৃত কাশ্মীর পরিস্থিতি এবং আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি তালিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলে। সোমবার জাতিংসঘের মানবাধিকার পরিষদের ৪২তম অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে মিশেল ব্যাচেল এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ বাতিল করা হয়। সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরে গণমাধ্যম, মোবাইল-ইন্টারনেট নিষিদ্ধসহ ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মিশেল বলেন, ভারত সরকারের কঠোর নীতির কারণে কাশ্মীরের নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মীদের আটক করা নিয়েও আমি চিন্তিত।’
কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শিথিলসহ সমস্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাতিল করেছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিশেল বলেন,‘ভারত ও পাকিস্তান সরকারের নিকট মানবাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষভাবে কাশ্মীরের চলমান কারফিউ বা অচলাবস্থা তুলে নেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ করছি। যেন সেখানকার নাগরিকদের ন্যূনতম চাহিদা নিশ্চিত হয়।’
গত ৩১ আগস্ট আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি তালিকা সম্পর্কে ব্যাচেল বলেন, চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর সেখানে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকদের ভারত থেকে বিতাড়ন করা হবে। পাশাপাশি সরকার অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বন্দিশালা নির্মাণ করছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার গ্রহণের পূর্বে তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়ন কিংবা বন্দিশিবিরে না নেওয়ার অনুরোধ জানান ব্যাচেল।
Leave a Reply